or login to place your questions here
অবস্হান ধানমন্ডি, ঢাকা | price: ৳৬০
দেখা হয়েছে ৭২৩ times থেকে এপ্র ২৭, ২০০৯
| শিরোনাম: | সরস সতী |
|---|---|
| প্রকাশনার সাল: | ২০০৮ (একুশে বইমেলা) |
| লেখক: | অবনি অনার্য |
| অন্যান্য: | "সরস সতী" কাব্যগ্রন্থ নিয়ে কবি রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ এবং সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের পাঠ-প্রতিক্রিয়া--- একটি পরিপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ পড়ে শেষ করলাম। পাঠের শুরুতেই কাব্যগ্রন্থের নাম দেখে বিস্মিত হবার পালা। একটি অতিপরিচিত শব্দকে ভেঙে একেবারে ভিন্নমাত্রার ব্যঞ্জনা! এরপর ক্রমশ ভেসে যাওয়া শব্দে-শব্দে অনুরণনের ভেতর। সাবলীল বিভঙ্গে লেখা অবনি'র কবিতার ভেতরে প্রবেশ করতে একবারের জন্যও হোঁচট খেতে হয় না, কেবল প্রায়শই থমকে যেতে হয়-- কবিতার পরতে পরতে পাওয়া শিল্পমগ্নতার বৈভবে। শব্দের নতুন ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়, এবং সেজন্য অবনিকে সাধুবাদও জানাই। শব্দের ভিন্নমাত্রার ব্যঞ্জনার সফল পুনরাবৃত্তি ভেতরেও আছে-- পরস্ত্রীকাতরতা, এনজিওগ্রাম, কিস্তি-মাত, মৌচাকরাণী, অপমানবিক ইত্যাদি কবিতায় ব্যবহৃত শব্দ এবং আখ্যান আমাদের প্রচলিত শব্দ-এবং-অর্থবোধকে নাড়া দিয়ে যায়। বাংলা কবিতার ইতিহাস-সংশ্লিষ্ট থেকে নবতর শিল্পরূপ, নবতর বয়ান এবং কাব্যকাঠামো সৃষ্টির নিমগ্ন প্রয়াস সাহসিকতার, এবং বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। অবনি অনার্য'র এই ধারালো কণ্ঠস্বর সামপ্রতিক সময়ের বাংলা কবিতার একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন-- এ-কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। -----------------রফিক আজাদ এটি একটি অতিশয় চমৎকার কবিতার বহি। যার প্রথম কবিতার নাম 'অয়ি কিশোরী'--; শেষ-কবিতার নাম 'অহি'। রচকের নাম অনার্য অবনি। হিন্দু না উনি মুসলিম-, ঐ জিজ্ঞাসে কোন জন? কবিতা লেখার সূত্রে উনি স্বগোত্রীয়, পরম স্বজন। অবনি আমারে নিয়া আধাখান কবিতা লিখছেন। তাই বইল্যা ভাববেন না, বিনিময়ে আলগি খেয়েছি। আসলেই, খোদার কসম, সরস্বতী মায়ের দিব্যি সরস সতী প'ড়ে আমি যারপরনাই আনন্দ পেয়েছি। ধন্যবাদ হে অনার্য সনত্দান, নব ছন্দে, নব অনত্দ্যমিলে, নব আনন্দে জাগো--, নবদ্বীপে আনো নব প্রাণ। -------------------------- নির্মলেন্দু গুণ অবনি অনার্য আস্তে-আস্তে পোক্ত হ'য়ে উঠছে দেখতে পাচ্ছি। তার প্রথম বইটার তুলনায় এই বইটিতে ছন্দ, শব্দচয়ন, প্রভৃতি বিষয়ে আরও যত্নের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। বলা যাবে না, যে এখনই তার সিদ্ধি এসে গেছে বা এখনই তার হাতে কালজয়ী কবিতা রচিত হ'তে শুরু করেছে বা করবার উপক্রম করেছে। বরং, বেশখানিকটাই ছেলেমানুষি এখনও ছেয়ে আছে তার কবিতাকে। কিন্তু একে আমি অন্ততঃ বড়একটা নেতিবাচক কিছু মনে করি না। এই ছেলেমানুষিটুকু যে-ক'দিন থাকবে, নোতুন কিছু করবার অদম্য চেষ্টাও থাকবে ততদিন, যার থেকে তার নিজের ভবিষ্যতের পথ তৈরি হ'য়ে যেতে পারে একটি বা একাধিকটি। ইতিবাচক আরও, তার জাড্যহীনতা, তার সংস্কারহীনতা। ওর মুখে লাগাম নেই। অনেক বাজে কথা যেমন বেরিয়ে যাবে ওর মুখ থেকে, তাদের সাথে অনেক এমন কথাও, যা শুধু ওর মতো ঠোঁটকাটারাই বলতে পারে আর বাকি জগৎসংসার নীরবে সমর্থন জানায় শুনে। তবে, যে-পারদর্শিতা-ও-প্রবণতা ওর দেখা যাচ্ছে ব্যঙ্গাত্মক কবিতায়, তার বাইরেও মাঝেমধ্যে পা ফেলে দেখতে হবে তাকে, কেননা, কে জানে এই অতিপ্রতূ্যষে, কোন্ ধরনের কবিতায় মোক্ষলাভ হবে ওর আখেরে। প্রথম বইটির থেকে দ্বিতীয় বইটিতে আসতে-আসতে যতটা উন্নয়ন লক্ষ করা গেল, তাতে ওকে নিয়ে আশাবাদী হবার যথেষ্ট কারণ আছে। আর-একটু সময়, মেধা ও শ্রম বিনিয়োগ করতে পারলে, ও বাংলা কবিতার পাঠকদের ভালবাসা কিনে নিতে পারবে তাতে আমার সন্দেহ নেই। জয় হোক। -----------------সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ |